Sunday, October 3, 2021

চা পান করলে ত্বক কালো হয়না

 গুজবে কান দিবেন না , চা পান করলে ত্বক কালো হয়না।

চা খেলে যদি বাস্তবিকই কেউ কালো হয়ে যেত, তাহলে তো ইংরেজ ও আইরিশদের গায়ের রং আগেই পাল্টে যেত। কিন্তু এমনটা তো হয়নি। দিনে ১০-১৫ কাপ খেলেও না। তাহলে? আসলে কে কালো হবে, কে ফর্সা তা অনেকাংশেই নির্ভর করে ত্বকের অন্দরে থাকা মেলানিন নামে একটি উপাদানের ওপর। আর এমন কোনো গবেষণা আজ পর্যন্ত হয়নি প্রমাণ হয়নি যে চা খেলে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই চা খেলে কালো হয়ে যাব—এ ধারণাটাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রসঙ্গত, জিনগত কারণ এবং রোদে কতটা সময় কাটানো হচ্ছে, এ দুটি বিষয়ের ওপর গায়ের রং অনেকাংশেই নির্ভর করে থাকে। প্রসঙ্গত, আমাদের শরীরকে ভালো রাখতে লিকার চা এবং গ্রিন টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

চা পান করলে ত্বক কালো হয়না


চা নিয়ে ছড়ানো সব থেকে বড় গুজব

 আসামে চা রোপণকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৮৯১ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে বাংলার পূর্ব দিকে রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু করে। কুমিল্লা থেকে শুরু সিলেট হয়ে ওই রেলপথ এগিয়েছিল তিনসুকিয়া, গৌহাটির দিকে। বিহার আর অসম থেকে চা বাগানের শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। একটা সময়ের পর মালিকপক্ষের অত্যাচার সহ্যের সীমা ছাড়ায়।

চা গুজব


ফলে একজোটে প্রতিবাদে সামিল হয় কয়েকশো চা বাগানের শ্রমিক। শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনে মাথায় হাত পড়ে চা বাগানের মালিকদের। ১৯২১ সালে, গোয়ালন্দ স্টিমার ঘাটে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলিও চালানো হয়। এর ফলে এই আন্দোলনের আগুনে যেন ঘি পড়ল! চায়ের ব্যবসা যখন প্রায় লাটে উঠতে চলেছে, তখন এই বঙ্গ অঞ্চলের প্রতিটি স্ট্রেশনে বিজ্ঞাপনটি দেওয়ার কথা মাথায় আসে চা বাগানের মালিকদের। ছবিটি ভারতের দমদম স্টেশনের ১০০ বছর আগের দেওয়া সেই বিজ্ঞাপনের, বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার পোড়াদহ স্টেশনে আগে ছিল শুনেছিলাম। এখন আছে কি না জানিনা।

চা খেলে প্লেগ, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়ার মতো অসুখ যে সারে না, তা আধুনিক বাঙালির ভাল করেই জানে। কিন্তু আড্ডায় চায়ের কাপে চুমুক না দিলে কি চলে!

ইংল্যান্ডে প্রথম চা প্রচলনের গল্প

 ১৬৬২ সালের ১৪ মে ঝকঝকে রৌদ্রের পড়ন্ত এক বিকালে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন একজন রমণীর জন্য- যিনি শীঘ্রই হতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রানী বা কুইন। তিনি বিশেষ দূত মারফত আগেভাগেই খবর পেয়েছেন, আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজদরবারে পদার্পণ করবেন পূর্তগালের রাজকুমারী ক্যাথেরিন ব্রাগেঞ্জা। রাজা চার্লস ক্যাথেরিনকে দেখতে এতটাই ব্যাকুল হয়ে আছেন যে, তিনি যেন নিজেকে আর কিছুতেই ধরে রাখতে পারছেন না। যদিও লোকমুখে তিনি জানতে পেরেছেন যে, ক্যাথেরিন দেখতে অতীব সুন্দরী ও একজন বিদূষী নারী। তার পরও তিনি মুখিয়ে আছেন রাজকুমারীর মুখ দর্শনের জন্য। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রাজকুমারীর শুভাগমনে রাজদরবার প্রাঙ্গণ বাদ্য-বাজনার ঐশ্বরিক সুর মূর্ছনার ঝঙ্কারে চারপাশ আমদিত হয়ে উঠল। রাজা বিলক্ষণ বুঝলেন এই সুর মূর্ছনার যথার্থ কারণ। রাজদরবারের অন্যান্য সভাসদ ও রাজ আমর্ত্যরাও সচেতন ও সটান দাঁড়িয়ে অপেক্ষমাণ রইলেন আগত রাজকুমারীর জন্য। ক্যাথেরিন রাজদরবারে প্রবেশ করেই মাথাটি ঈষৎ ন্যুব্জ করে রাজা দ্বিতীয় চার্লসকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও অভিবাদন জানালেন। রাজা চার্লসও দাঁড়িয়ে রাজকুমারীর উদ্দেশে তার শুভেচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রকাশ করলেন। চার্লস এবার রানীকে জিজ্ঞেস করলেন যাত্রাপথের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে তিনি কী ধরনের পানীয় পান করতে ইচ্ছুক? রানী কিছুটা লাজুক কিন্তু সপ্রতিভ ভঙ্গিতে রাজাকে বললেন, আমার আপাতত এক গেলাস (কারণ তখনো পর্যন্ত পেয়ালায় চা পানের সংস্কৃতি চালু হয়নি) চা হলেই চলবে।



শুধু রাজা চার্লসই নয়, রাজদরবারে সব উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ও অতিথিরা অবাক হলেন। কারণ চা পানীয়টি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত তারা যৎসামান্যই অবগত। বিশেষ করে রাজা চার্লস মনেও করতে পারলেন না চা বস্তুটি তিনি জীবনে আদৌ দেখেছেন কিনা? ইতিমধ্যে একজন উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী রাজার কানে ফিসফিস করে কী যেন বললেন। রাজা এবার রাজকুমারী ক্যাথেরিনকে বললেন- আমরা দুঃখিত সম্রাজ্ঞী। আমাদের এখানে চা পানীয়টির একেবারেই প্রচলন নেই। আপনি আপনার ক্লান্তি দূর করতে এক গ্লাস উৎকৃষ্ট বিয়ার পান করতে পারেন। এই হলো ইংল্যান্ডে প্রথম চা প্রচলন কাহিনী।

রাশিন ক্যারাভান চা এর উৎপত্তি

 

রাশিন ক্যারাভান চা

১৬০০ সালের দিকে রুশদের কাছে বেশিরভাগ চা পৌঁছাতো চীন থেকে রাশিয়ার পথে ক্যারাভান রুটে। উটের কাফেলা মাসের পর মাস ধরে ভ্রমণ করে মহাদেশ জুড়ে চা বহন করে চলত। যাত্রা শেষ করতে একটি কাফেলার ১৬ মাস সময় লাগতো এবং প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে হতো। তাদের রাতের ক্যাম্প-ফায়ারের ধোঁয়া চায়ের ওপর পড়তো এবং যতক্ষণে তারা মস্কো কিংবা সেন্ট পিটার্সবার্গ পৌঁছাতো, পাতাগুলোতে ধোঁয়াটে স্বাদ তৈরি হতো আর সেখান থেকে তৈরি হওয়া সেই চায়ের স্বাদ যা আজকের দিনে রাশিন ক্যারাভান চা হিসেবে পরিচিত।

লাহোর রেলস্টেশনের টি স্টলের

 ভারতবর্ষে চায়ের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে ইন্ডিয়ান টি চেজ কমিটির উদ্যেগে ১৯৩০ সালে ৫০ টিরও বেশি স্টেশনে টি স্টল স্থাপন করা হয়। তবে হিন্দু-মুসলমান জাত ও ধর্মের বিভেদের কারণে একই সাথে বসে একই কাপে চা খেতে বেশিরভাগ মানুষই নারাজ ছিল। তখন কিছু স্টেশন স্টেশনে হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য আলাদা টি স্টল তৈরি করা হয় এবং কিছু স্টেশন একই টি স্টলের দুই পাশে হিন্দু ও মুসলমানদের আলাদা চা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।।

টি স্টলের


ছবিটি লাহোর রেলস্টেশনে অবস্থিত টি স্টলের। বাঁ পাশে হিন্দুদের এবং ডান পাশে মুসলমানদের চা পানের ব্যবস্থা। ছবিটি ডব্লিউ এইচ উকার্সের লেখা চা–বিষয়ক আকর গ্রন্থ ‘অল অ্যাবাউট টি’ শীর্ষক বইতে প্রকাশিত।

হারিয়ে যাওয়া সেই টি-টোকেন

 ১৮৭০ সালের দিকে ভারতবর্ষের অনেক চা-বাগানে টি-টোকেনের ব্যবহার শুরু করে। চা শ্রমিদের মজুরি হিসেবে এই ধাতব টোকেন দেওয়া হতো।

টি-টোকেন


আসাম-বেঙ্গল রেলপথ চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত কলকাতা থেকে এসব চা-বাগানে ধাতব মুদ্রা পরিবহন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল ছিল। শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে পাই, পয়সা ও আনার মতো ক্ষুদ্র মূল্যমানের মুদ্রার প্রয়োজন হতো। টাঁকশাল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্ষুদ্র মূল্যমানের মুদ্রার সরবরাহ না থাকায়, মুদ্রা সংগ্রহের জন্য বাগান কর্তৃপক্ষকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো এবং বড় অঙ্কের বাট্টা (কমিশন) গুনতে হতো। এই সংকট নিরসনে বড় বড় চা বাগানে তখন টি-টোকেনের ব্যবহার শুরু করে। টোকেন-পদ্ধতি চালুর পেছনে আরেকটি অন্তর্নিহিত কারণ ছিল।
কঠোর পরিশ্রম, বৈরী পরিবেশ আর অতি নিম্ন মজুরির কারণে শ্রমিকেরা প্রায়ই বাগান থেকে পালিয়ে যেতে চাইতেন। অনেকে সময় স্বজনদের দেখতে মন চাইলেও যাওয়ার উপায় ছিল না। কারণ টোকেনের বিপরীতে বাগানের ভেতরের নির্ধারিত দোকান থেকেই শুধু পণ্য কেনা যেত, বাগানের বাইরে থেকে এই এই টোকেনে কিছুই কিনা যেত না। বিনিময়মূল্য হিসেবে সরকার প্রচলিত মুদ্রা প্রাপ্তির কোনো সুযোগ ছিল না। আর বাগানের বাইরে এসব টোকেনের কোনো মূল্য ছিল না। ফলে শ্রমিকেরা চাইলেও বাগান ত্যাগ করতে পারতেন না।
প্রথম ছবি: ব্রিটিশ কোম্পানি ডানকান ব্রাদার্সের আওতাধীন লংলা চা-বাগানে ব্যবহৃত টোকেন। এটিতে মূল্যমান উল্লেখ নেই। তবে মুদ্রাসংক্রান্ত নিলামের অনলাইন পোর্টাল ‘নিউমিসবিডস’ থেকে ছবিটি সংগ্রহ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ছবি: ভারতের কেরালা রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কানান দেভান হিল প্ল্যান্টেশনস কোম্পানি (কেডিএইচপি) কর্তৃক ব্যবহৃত দুই আনা মূল্যের টি-টোকেন। এটি ব্রোঞ্জের। প্রস্তুতকাল ১৮৯৯, ওজন ৬ দশমিক ৯১ গ্রাম, পুরুত্ব ২৭ মিমি। মুদ্রার মুখ্য দিকের মাঝ বরাবর শ্মশ্রুমণ্ডিত ব্যক্তির মুখ। আর গৌণ দিকে ফ্যাক্টরি বিল্ডিংয়ের ছবিসহ কেডিএইচপির নাম খোদাই করা। মুদ্রাসংক্রান্ত নিলামের অনলাইন পোর্টাল ‘নিউমিসবিডস’ হতে ছবিটি সংগ্রহ করা হয়েছে।
(সকল তথ্য প্রথম আলোতে প্রকাশিত গবেষক হোসাইন মোহাম্মদ জাকির "হারিয়ে যাওয়া সেই টি-টোকেন" শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া।)

এ গার্ডেনার, এ থিফ, এ স্পাই

সপ্তদশ শতকে চীন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরলে ব্রিটিশদের চায়ের জন্য অন্য দেশের দিকে মনোযোগ দিতে হয়।

ব্রিটিশ টি রবারি


ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, যেটি বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতো তারা একজন স্কটিশ উদ্ভিদ বিজ্ঞানী রবার্ট ফরচুনকে নিয়োগ করলো। যিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিদেশি বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ এবং সেগুলো অভিজাতদের কাছে বিক্রির জন্য পরিচিত ছিলেন।
রবার্ট ফরচুন নামে একজন স্কটিশ উদ্ভিদ বিজ্ঞানীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। চীনা পোশাক পরিয়ে তাঁকে বিদেশিদের জন্য নিষিদ্ধ চীনের এমন চা–অঞ্চলে পাঠানো হয়। ফরচুন গভীরভাবে সেখানে চা উৎপাদন পর্যবেক্ষণ করেন এবং যথেষ্ট পরিমাণ চায়ের বীজ নিয়ে ফেরত আসেন।
ফরচুন চীন থেকে শুধু বীজ এবং চারাই আনেননি, সঙ্গে করে একদল প্রশিক্ষিত চীনা চা–শ্রমিককেও ভাগিয়ে আনেন। নতুন পানি ও আবহাওয়ায় যৎসামান্য কিছু চারা বাঁচে। চীন থেকে আনা প্রযুক্তি ও জ্ঞান ভারতবর্ষে চা–শিল্পের সূচনা ত্বরান্বিত করে।
ইতিহাসে এই ঘটনাটি "ব্রিটিশ টি রবারি" নামে খ্যাত। করপোরেট গুপ্তচরবৃত্তির এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক সারাহ রোজের লেখা ‘ফর অল দ্য টি ইন চায়না: হাও ইংল্যান্ড স্টোল দ্য ওয়ার্ল্ডস ফেবারিট ড্রিংক অ্যান্ড চেঞ্জড হিস্ট্রি’ (২০১০) একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। ফরচুনের কর্মকাণ্ডে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বইটির শুরুতে রোজ লিখেছেন ‘দ্য টাস্ক রিকয়ার্ড এ প্ল্যান্ট হান্টার, এ গার্ডেনার, এ থিফ, এ স্পাই’।

চা শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা

সকালের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই আমাদের দিনের সূচনা হয়ে থাকে। এছাড়াও দিনের বিভিন্ন সময়ে কাজের ফাঁকে, ক্লান্তিতে, পারিবারিক আড্ডায়, আপ্যায়নে কিংবা বন্ধুত্বে চা যেন আমাদের নিত্য সঙ্গী। কিন্ত এই চা আমাদের হাতে তুলে দিতে দিনরাত যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে, সেই অবহেলিত চা শ্রমিক সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?

চা শ্রমিক


#দৈনিক_মজুরীঃ
চা শ্রমিকদের বর্তমান দৈনিক মজুরী ১০২ টাকা (ফ্যাক্টরীতে ১০৩-১০৫ টাকা)। তবে এই মজুরী নিয়মিত চুক্তির মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।
#কাজের_নিরিখঃ
চা বাগানের বেশিরভাগ কাজই হয়ে থাকে নিরিখের ভিত্তিতে। তাই আপাত দৃষ্টিতে দৈনিক মজুরী ১০২ টাকা মনে হলেও একজন চা শ্রমিক তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ১০২ টাকার অধিক অর্থ উপার্জন করতে পারেন। কিছু নিরিখের উদাহরণঃ
-পাতা উত্তোলনঃ ২৩ কেজি,
-পলিব্যাগ ভর্তিঃ ৩০০ টি
-পলিব্যাগ বহনঃ ৬০০ টি
-স্প্রেয়িংঃ ৭০-১০০ লিটার (দুরত্ব এবং উঁচু নীচু সমতল ভিত্তিক)
-সার প্রয়োগঃ ১০০ কেজি ইত্যাদি।
একজন মহিলা ভরা মৌসুমে দৈনিক ৮০-১০০ কেজি পর্যন্ত পাতা উত্তোলন করতে পারেন (দক্ষতার উপর কম বেশি হতে পারে)। প্রথম ২৩ কেজি পাতা তোলার জন্য তিনি ১০২ টাকা পাবেন এবং ২৩ কেজি তোলার পর প্রতি কেজি অতিরিক্ত পাতার জন্য ৪.১১ টাকা করে পাবেন। স্প্রেয়িং এর ক্ষেত্রে ৮ ঘন্টা ওয়ার্ক আওয়ারের ভিতরেই একজন শ্রমিক ৩ হাজিরা পর্যন্ত স্প্রেয়িং করতে পারেন (১০২*৩=৩০৬ টাকা)। এভাবেই প্রত্যেকটা কাজ নিরিখের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
#সাপ্তাহিক_ছুটিঃ
চা বাগানের সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার। একজন শ্রমিক এই ছুটির দিনেও কাজ না করেই ১০২ টাকা মজুরী পাবেন। তবে এর জন্য তাকে সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন কাজে উপস্থিত থাকতে হবে।
#উৎসব_বোনাসঃ
প্রত্যেক শ্রমিক বছরে ২ বার উৎসব বোনাস পেয়ে থাকেন। বোনাসের মোট অর্থের পরিমান ১০২*৪৫=৪৫৯০ টাকা (২ কিস্তিতে মোট ৪৫৯০ টাকা পাবেন)।
#উৎসবকালীন_ছুটিঃ
বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে বাংলাদেশীয় চা সংসদের ক্যালেন্ডারে বছরে ১৫-১৬ টি ছুটি ঘোষনা করা হয়ে থাকে। উক্ত ছুটির দিনগুলোতে শ্রমিকেরা মজুরী প্রাপ্ত হবেন। এই ছুটি যদি সাপ্তাহিক ছুটির দিন অর্থাৎ রবিবারে পড়ে যায় তাহলে তারা অন্য দিন সুবিধামত ছুটি ভোগ করার সুযোগ পাবেন (মজুরীসহ)।
#অসুস্থতার_জন্য_ছুটিঃ
একজন শ্রমিক অসুস্থতার জন্য বছরে ১৪ দিন ছুটি কাটাতে পারবেন (মজুরীসহ)।
#অর্জিত_ছুটিঃ
একজন চা শ্রমিক বছরে ১২ টি অর্জিত ছুটি ভোগ করতে পারেন (মজুরীসহ)।
#রেশনঃ
পুরুষ শ্রমিক নিজের সহ তার স্ত্রী (স্ত্রী কাজ না করলেও) এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক অনধিক ২ সন্তানের জন্য প্রতি সপ্তাহে রেশন হিসেবে চাল বা আটা পেয়ে থাকেন। আর মহিলা শ্রমিকের ক্ষেতে তিনি নিজে সহ তার অপ্রাপ্তবয়স্ক অনধিক ২ সন্তান রেশন পাবেন (তার স্বামী ব্যাতিত)।
#চিকিৎসাঃ
চা শ্রমিকরা ফ্রী চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকেন।
#আবাসন_সুবিধাঃ
চা শ্রমিকেরা বাগানের জায়গাতেই বসবাস করেন। বসবাসের জন্য বাড়িঘর নির্মাণ, মেরামত ইত্যাদি যাবতীয় খরচ বাগান কর্তৃপক্ষ বহন করে থাকেন।
#প্রতিদিন_কাজের_সুবিধাঃ
চা বাগানে বছরের সব সময় সমান কাজ থাকেনা (যেমনঃ মধ্য ফেব্রুয়ারী থেকে মধ্য এপ্রিল খুব একটা কাজ থাকেনা)। তবুও কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক শ্রমিককে রোজ কাজ দিতে বাধ্য।
#পোষ্যঃ
একজন শ্রমিক অবসরে গেলে তার পরিবারের যে কোন ১ জন সদস্য পোষ্য হিসেবে উক্ত বাগানে কাজ পেয়ে থাকেন।
#অবসর_ভাতাঃ
অবসর গ্রহণের পর একজন শ্রমিক সপ্তাহে ১০০-১৫০ টাকা অবসর ভাতা পেয়ে থাকেন।
#ভবিষ্যৎ_তহবিলঃ
চা বাগানে ভবিষ্যৎ তহবিলের সুবিধাও চালু রয়েছে। একজন শ্রমিক অবসর গ্রহণের পর কয়েক লাখ টাকা ভবিষ্যৎ তহবিল থেকে পেয়ে থাকেন।
এগুলো ছাড়াও ছোটখাটো আরও কিছু সুবিধা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে একজন চা শ্রমিকের জন্য বাগান কর্তৃপক্ষের দৈনিক গড়ে ৩০০ টাকার উপরে ব্যয় হচ্ছে।
কিন্ত আজকের দিনে চা শ্রমিকদের এই বেতন কাঠামো বা সুযোগ সুবিধা কতটুকু যুগোপযোগী তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
#Photo_location:
Bangladesh Tea Research Institute (BTRI), Srimangal


Roni Debnath
Bangladesh Tea Research Institute (BTRI)

আনারস এবং দুধ একসাথে খেলে কি হয়?

 “দুধ এবং আনারস একসাথে বা পরপর খেলে বিষক্রিয়া হয়ে মারা যাবে” – ছোটবেলা থেকে এই কথাটি শুনে আসেনি এরকম মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে একেবারে নেই বললেই চলে। এই ভয়ে অনেকে দুধচা খাওয়ার পর, সেদিন ভুলেও আনারস মুখে তোলেন না। কছুদিন চাকসেও দুধচা ও আনারস সম্পর্কিত বেশকিছু পোস্ট দেখা যাচ্ছে, সেখানে অনেকের কমেন্ট দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন দুধচা খেয়ে আনারস খেলে মারা যাওয়ার সম্ভবনা আছে। আসুন দুধ ও আনারস সম্পর্কিত কিছু বিষয় জেনে নিই।


আনারস দুধ


দুধের অন্যতম উপাদান হল ক্যাসিন (Casein) । দুধের সাথে যখন কোন অ্যাসিডিক পদার্থ মেশানো হয়, যেমন লেবু, আনারস, বা টক জাতীয় অন্য কোন ফল বা খাবার, তখন তা দুধকে ভেঙ্গে ক্যাসিন আলাদা করে ফেলে এবং দুধ পরিণত হয় ছানায়। এমনকি মানবদেহে পাকস্থলীর মাঝেও এক বিশেষ প্রকার গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড থাকে যা হজমে সহায়তা করে। দুধ পান করলে পাকস্থলীতে পৌঁছানোমাত্রই সেটি ক্যাসিন আলাদা করে দুধকে ছানায় পরিণত করে। এটি একটি স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া, যা ছোটবড় সকলেরই হয়ে থাকে।
দুধের মধ্যে আনারস মেশালে উপরে বর্ণিত কারণে দুধ জমাট বেধে ছানায় পরিণত হবে। যা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং আনারস ছাড়া অন্য যেকোনো টক জাতীয় খাবারের জন্যও প্রযোজ্য। কিন্তু এর কারণে এমন কোন বিষক্রিয়া তৈরি হয় না, যাতে মানুষ মারা যেতে পারে। এরকম ‘অপ্রক্রিয়াজাত’ ছানা এবং ‘আনারস মিশিয়ে’ বানানো ছানার মধ্যে গঠনগত কোন পার্থক্য নেই। তাই এমন ‘কাঁচা’ ছানা খেলে যেসব শারীরিক সমস্যা হতে পারে (বিশেষত গ্যাস্ট্রিকজনিত কোন সমস্যা থাকলে), আনারস ও দুধ একসাথে খেলেও ঠিক সেই রকমই সমস্যা হতে পারে। এছাড়া বিশেষ কোন সমস্যা বা বিষক্রিয়া হবে না।
তবে এখানে বলে রাখা দরকার, আনারস কিংবা দুধে কারো কারো এলার্জী থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আনারস গ্রহণে কিংবা দুধ পানে বিরূপ শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এই জন্যই আলসার বা গ্যাস্ট্রিক বা ‘ল্যাক্টোজেন টলারেন্স’ কম এমন রোগীদেরকে দুধ পান করতে কিংবা বেশি পরিমাণে টক জাতীয় ফল খেতে নিরুৎসাহিত করা হয়। এই ধরণের পূর্ব শারীরিক অবস্থা না থাকলে, দুধ ও আনারস একসাথে খেলে আলাদা করে কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। উল্লেখ্য বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আনারস ও দুধের তৈরি জনপ্রিয় বিভিন্ন পানীয় রয়েছে, যার মধ্যে ভাইফালা, বাবল টি পাইন্যাপল স্মুদিস, ওটাই, মিল্কশেক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব পানীয়তেও কোন বিষক্রিয়া হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না।
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির’ মেডিসিন বিভাগের প্রোফেসর ড. এ বি এম আব্দুল্লাহ এ বিষয় বলেন,“যদি কেউ আনারস ও দুধ একসাথে খায় তবে সে মারা যাবে – এমন ধারনাটি ভুল। এটি খাদ্যবিষয়ক কুসংস্কার বা ভ্রান্তধারনা।”
হলি মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ডিপার্টমেন্টের, ড. শাহ মোনেমের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন,“আমি কখনো কোন মানুষকে দুধ ও আনারস একসাথে খেয়ে মারা যেতে দেখি নি। এটি একটি কুসংস্কার। অনেক সময় আমরা দুধ-আনারসের ডেসার্ট, কাস্টার্ড বা স্মুদি খেয়ে থাকি। কিন্তু এসব খেলে বিশেষ কোন সমস্যা হয় না।”
এপলো হসপিটালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন,“দুধ ঠিক মত প্রক্রিয়াজাত না করলে, কিংবা অসম পরিমাণে আনারসের মিশ্রণে তা শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। যার ফলাফলে মৃত্যু না বরং পেট খারাপ হওয়া, বদ হজম কিংবা গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যা হতে পারে।”
তবে ড. এ বি এম আব্দুল্লাহ, এই ধরণের সমস্যা এড়াতে ২-৩ ঘণ্টার পার্থক্যে দুধ ও আনারস খেতে পরামর্শ দেন এবং খালি পেটে আনারস খেতে নিরুৎসাহিত করেন।

গাছ হিলেগা, রুপিয়া মিলেগা থেকে 'মুলুকযাত্রা' আন্দোলন

 ‘গাছ হিলেগা, রুপিয়া মিলেগা’, এমন প্রলোভন দেখিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের আসাম, উড়িষ্যা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসতো বংলাদেশে। শ্রমিকরা এমন প্রলোভনে বাংলাদেশে এলেও তাদের ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শত শ্রমিকের জীবন বিপন্ন হয়েছে তার হিসেব মেলা ভার। চা শ্রমিকদের উপর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে সে সময়কার চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওসরন নিজ দেশে চা শ্রমিকদের ফিরে যাবার জন্য 'মুলুকযাত্রা' আন্দোলনের ডাক দেন। 'মুলুকযাত্রা' আন্দোলনের ডাকে ১৯২১ সালের ২০ মে

মুলুকযাত্রা


‘মুল্লুকে ফিরে চল’ স্লোগানে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু করেন। উদ্যোগ নেন নিজ নিজ অঞ্চলে ফিরে যাওয়ার। কিন্তু ফিরে যাওয়া অত সহজ ছিল না। চা-শিল্পের মালিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রেল দপ্তর শ্রমিকদের টিকিট দেওয়া বন্ধ করে দেয়, যাতে শ্রমিকেরা ফিরে যেতে না পারেন। বাধ্য হয়ে সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে চাঁদপুর মেঘনা স্টিমার ঘাটে পৌছান সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজারের অধিক চা শ্রমিক। তারা জাহাজে চড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে ব্রিটিশ সৈন্যরা নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে শত শত চা শ্রমিককে হত্যা করে এবং মৃতদেহ ভাসিয়ে দেয় মেঘনা নদীতে। বাকিদের ধরে নিয়ে পুনরায় চা-বাগানের কাজে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২০ মে চা শ্রমিক দিবস পালন করা হয়।

চাতে নাহি মাদকতা দোষ, চা পানে করে চিত্ত পরিতোষ

 


১৯ শতকের কথা। ভারতবর্ষে চা ছিল নিষিদ্ধ পানীয়, বিশেষ করে বাংলা তে। চাকে মাদক বা নেশাদ্রব্য মনে করা হতো এবং চা বাগানের চাকরিকে মনে করা হতো পাপ। যে কারণে ভারতীয় বাজারে চাযের ব্যবসা ঠিক জমছিলনা অপরদিকে দিকে বাগান মালিকেরা শ্রমিক সংকটে ভুগতো। এই সমস্যার সমাধানের জন্য ও মানুষের ধারণা পরিবর্তণের উদ্দেশ্যে ফ্রিতে চা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিভিন্ন হাটে বাজারে, গ্রামগঞ্জে ও স্টেশন গুলোতে চোঙা দিয়ে মাইকিং করে দুধ চিনি সহযোগে ফ্রি চা খাওয়ানো হতো। বড় কেটলিতে ভরে পাশে পরিবেশক দাড়িয়ে কাপ ভরে বিনামূল্যে চা বিতরণ করতো। পাশে পোস্টারে লেখা থাকতো---"চাতে নাহি মাদকতা দোষ, চা পানে করে চিত্ত পরিতোষ"

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

কোনো বিশেষ দিন আসলেই আমি অবাক হয়ে যাই। চায়ের মত এত সাধারণ একটি বিষয়কে এত অসাধারণ ভাবে উপস্থাপনের আইডিয়া আপনাদের মাথায় কোত্থেকে আসে তা ভেবেই কুল কিনারা পাইনা।
সব ছবি হয়তো সবার নিউজফিডে যায়নি তাই ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আপনাদের ফটোগ্রাফি গুলো একসাথে শেয়ার করলাম। ছবি গুলো সবাই অন্তত একবার দেইখেন। ভালো লাগবে।

২১শে ফেব্রুয়ারি

২১শে ফেব্রুয়ারি

২১শে ফেব্রুয়ারি

২১শে ফেব্রুয়ারি

২১শে ফেব্রুয়ারি

২১শে ফেব্রুয়ারি

২১শে ফেব্রুয়ারি

২১শে ফেব্রুয়ারি

২১শে ফেব্রুয়ারি

২১শে ফেব্রুয়ারি

২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি

চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি



জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান

দেশভাগের পর ১৯৫১ সালে গঠিত হয় পাকিস্তান টি বোর্ড। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সেই চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান। রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে চা প্রেরণের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান


১৯৭৩ সালের অক্টোবরে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে আরবদের সমর্থনে মিসরকে বিমানভর্তি চা পাঠান। মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ফিরতি উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে ৩২টি ‘টি-৫৪’ ট্যাংক আর ৪০০ রাউন্ড ট্যাংকের গোলা উপহার দেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট উপহার পাওয়া ৩২ টি ট্যাংকের মধ্য থেকে ট্যাংকের ২৮টি 'টি-৫৪' ট্যাংক সহ মোট ৪০ টি ট্যাংক নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা মিশনে যোগ দেয় মেজর রাশিদ আর ফারুক। (১৯৭০-এর নির্বাচনের সময় বেতার ও টেলিভিশন ভাষণের আগে চা পানরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবিটি প্রখ্যাত ফটো সাংবাদিক প্রয়াত লুৎফর রহমানের তোলা।)মুক্তিযুদ্ধের মহানাযক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্মশতবার্ষিকীতে জানাই আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।

চা পান করলে ত্বক কালো হয়না

  গুজবে কান দিবেন না , চা পান করলে ত্বক কালো হয়না। চা খেলে যদি বাস্তবিকই কেউ কালো হয়ে যেত, তাহলে তো ইংরেজ ও আইরিশদের গায়ের রং আগেই পাল্টে ...