গুজবে কান দিবেন না , চা পান করলে ত্বক কালো হয়না।
Sunday, October 3, 2021
চা পান করলে ত্বক কালো হয়না
চা নিয়ে ছড়ানো সব থেকে বড় গুজব
আসামে চা রোপণকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৮৯১ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে বাংলার পূর্ব দিকে রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু করে। কুমিল্লা থেকে শুরু সিলেট হয়ে ওই রেলপথ এগিয়েছিল তিনসুকিয়া, গৌহাটির দিকে। বিহার আর অসম থেকে চা বাগানের শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। একটা সময়ের পর মালিকপক্ষের অত্যাচার সহ্যের সীমা ছাড়ায়।
ফলে একজোটে প্রতিবাদে সামিল হয় কয়েকশো চা বাগানের শ্রমিক। শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনে মাথায় হাত পড়ে চা বাগানের মালিকদের। ১৯২১ সালে, গোয়ালন্দ স্টিমার ঘাটে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলিও চালানো হয়। এর ফলে এই আন্দোলনের আগুনে যেন ঘি পড়ল! চায়ের ব্যবসা যখন প্রায় লাটে উঠতে চলেছে, তখন এই বঙ্গ অঞ্চলের প্রতিটি স্ট্রেশনে বিজ্ঞাপনটি দেওয়ার কথা মাথায় আসে চা বাগানের মালিকদের। ছবিটি ভারতের দমদম স্টেশনের ১০০ বছর আগের দেওয়া সেই বিজ্ঞাপনের, বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার পোড়াদহ স্টেশনে আগে ছিল শুনেছিলাম। এখন আছে কি না জানিনা।
ইংল্যান্ডে প্রথম চা প্রচলনের গল্প
১৬৬২ সালের ১৪ মে ঝকঝকে রৌদ্রের পড়ন্ত এক বিকালে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন একজন রমণীর জন্য- যিনি শীঘ্রই হতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রানী বা কুইন। তিনি বিশেষ দূত মারফত আগেভাগেই খবর পেয়েছেন, আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজদরবারে পদার্পণ করবেন পূর্তগালের রাজকুমারী ক্যাথেরিন ব্রাগেঞ্জা। রাজা চার্লস ক্যাথেরিনকে দেখতে এতটাই ব্যাকুল হয়ে আছেন যে, তিনি যেন নিজেকে আর কিছুতেই ধরে রাখতে পারছেন না। যদিও লোকমুখে তিনি জানতে পেরেছেন যে, ক্যাথেরিন দেখতে অতীব সুন্দরী ও একজন বিদূষী নারী। তার পরও তিনি মুখিয়ে আছেন রাজকুমারীর মুখ দর্শনের জন্য। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রাজকুমারীর শুভাগমনে রাজদরবার প্রাঙ্গণ বাদ্য-বাজনার ঐশ্বরিক সুর মূর্ছনার ঝঙ্কারে চারপাশ আমদিত হয়ে উঠল। রাজা বিলক্ষণ বুঝলেন এই সুর মূর্ছনার যথার্থ কারণ। রাজদরবারের অন্যান্য সভাসদ ও রাজ আমর্ত্যরাও সচেতন ও সটান দাঁড়িয়ে অপেক্ষমাণ রইলেন আগত রাজকুমারীর জন্য। ক্যাথেরিন রাজদরবারে প্রবেশ করেই মাথাটি ঈষৎ ন্যুব্জ করে রাজা দ্বিতীয় চার্লসকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও অভিবাদন জানালেন। রাজা চার্লসও দাঁড়িয়ে রাজকুমারীর উদ্দেশে তার শুভেচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রকাশ করলেন। চার্লস এবার রানীকে জিজ্ঞেস করলেন যাত্রাপথের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে তিনি কী ধরনের পানীয় পান করতে ইচ্ছুক? রানী কিছুটা লাজুক কিন্তু সপ্রতিভ ভঙ্গিতে রাজাকে বললেন, আমার আপাতত এক গেলাস (কারণ তখনো পর্যন্ত পেয়ালায় চা পানের সংস্কৃতি চালু হয়নি) চা হলেই চলবে।
রাশিন ক্যারাভান চা এর উৎপত্তি
১৬০০ সালের দিকে রুশদের কাছে বেশিরভাগ চা পৌঁছাতো চীন থেকে রাশিয়ার পথে ক্যারাভান রুটে। উটের কাফেলা মাসের পর মাস ধরে ভ্রমণ করে মহাদেশ জুড়ে চা বহন করে চলত। যাত্রা শেষ করতে একটি কাফেলার ১৬ মাস সময় লাগতো এবং প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে হতো। তাদের রাতের ক্যাম্প-ফায়ারের ধোঁয়া চায়ের ওপর পড়তো এবং যতক্ষণে তারা মস্কো কিংবা সেন্ট পিটার্সবার্গ পৌঁছাতো, পাতাগুলোতে ধোঁয়াটে স্বাদ তৈরি হতো আর সেখান থেকে তৈরি হওয়া সেই চায়ের স্বাদ যা আজকের দিনে রাশিন ক্যারাভান চা হিসেবে পরিচিত।
লাহোর রেলস্টেশনের টি স্টলের
ভারতবর্ষে চায়ের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে ইন্ডিয়ান টি চেজ কমিটির উদ্যেগে ১৯৩০ সালে ৫০ টিরও বেশি স্টেশনে টি স্টল স্থাপন করা হয়। তবে হিন্দু-মুসলমান জাত ও ধর্মের বিভেদের কারণে একই সাথে বসে একই কাপে চা খেতে বেশিরভাগ মানুষই নারাজ ছিল। তখন কিছু স্টেশন স্টেশনে হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য আলাদা টি স্টল তৈরি করা হয় এবং কিছু স্টেশন একই টি স্টলের দুই পাশে হিন্দু ও মুসলমানদের আলাদা চা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।।
হারিয়ে যাওয়া সেই টি-টোকেন
১৮৭০ সালের দিকে ভারতবর্ষের অনেক চা-বাগানে টি-টোকেনের ব্যবহার শুরু করে। চা শ্রমিদের মজুরি হিসেবে এই ধাতব টোকেন দেওয়া হতো।
এ গার্ডেনার, এ থিফ, এ স্পাই
সপ্তদশ শতকে চীন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরলে ব্রিটিশদের চায়ের জন্য অন্য দেশের দিকে মনোযোগ দিতে হয়।
চা শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা
সকালের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই আমাদের দিনের সূচনা হয়ে থাকে। এছাড়াও দিনের বিভিন্ন সময়ে কাজের ফাঁকে, ক্লান্তিতে, পারিবারিক আড্ডায়, আপ্যায়নে কিংবা বন্ধুত্বে চা যেন আমাদের নিত্য সঙ্গী। কিন্ত এই চা আমাদের হাতে তুলে দিতে দিনরাত যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে, সেই অবহেলিত চা শ্রমিক সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?
আনারস এবং দুধ একসাথে খেলে কি হয়?
“দুধ এবং আনারস একসাথে বা পরপর খেলে বিষক্রিয়া হয়ে মারা যাবে” – ছোটবেলা থেকে এই কথাটি শুনে আসেনি এরকম মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে একেবারে নেই বললেই চলে। এই ভয়ে অনেকে দুধচা খাওয়ার পর, সেদিন ভুলেও আনারস মুখে তোলেন না। কছুদিন চাকসেও দুধচা ও আনারস সম্পর্কিত বেশকিছু পোস্ট দেখা যাচ্ছে, সেখানে অনেকের কমেন্ট দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন দুধচা খেয়ে আনারস খেলে মারা যাওয়ার সম্ভবনা আছে। আসুন দুধ ও আনারস সম্পর্কিত কিছু বিষয় জেনে নিই।
গাছ হিলেগা, রুপিয়া মিলেগা থেকে 'মুলুকযাত্রা' আন্দোলন
‘গাছ হিলেগা, রুপিয়া মিলেগা’, এমন প্রলোভন দেখিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের আসাম, উড়িষ্যা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসতো বংলাদেশে। শ্রমিকরা এমন প্রলোভনে বাংলাদেশে এলেও তাদের ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শত শ্রমিকের জীবন বিপন্ন হয়েছে তার হিসেব মেলা ভার। চা শ্রমিকদের উপর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে সে সময়কার চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওসরন নিজ দেশে চা শ্রমিকদের ফিরে যাবার জন্য 'মুলুকযাত্রা' আন্দোলনের ডাক দেন। 'মুলুকযাত্রা' আন্দোলনের ডাকে ১৯২১ সালের ২০ মে
চাতে নাহি মাদকতা দোষ, চা পানে করে চিত্ত পরিতোষ
১৯ শতকের কথা। ভারতবর্ষে চা ছিল নিষিদ্ধ পানীয়, বিশেষ করে বাংলা তে। চাকে মাদক বা নেশাদ্রব্য মনে করা হতো এবং চা বাগানের চাকরিকে মনে করা হতো পাপ। যে কারণে ভারতীয় বাজারে চাযের ব্যবসা ঠিক জমছিলনা অপরদিকে দিকে বাগান মালিকেরা শ্রমিক সংকটে ভুগতো। এই সমস্যার সমাধানের জন্য ও মানুষের ধারণা পরিবর্তণের উদ্দেশ্যে ফ্রিতে চা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিভিন্ন হাটে বাজারে, গ্রামগঞ্জে ও স্টেশন গুলোতে চোঙা দিয়ে মাইকিং করে দুধ চিনি সহযোগে ফ্রি চা খাওয়ানো হতো। বড় কেটলিতে ভরে পাশে পরিবেশক দাড়িয়ে কাপ ভরে বিনামূল্যে চা বিতরণ করতো। পাশে পোস্টারে লেখা থাকতো---"চাতে নাহি মাদকতা দোষ, চা পানে করে চিত্ত পরিতোষ"
চায়ের কাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান
দেশভাগের পর ১৯৫১ সালে গঠিত হয় পাকিস্তান টি বোর্ড। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সেই চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান। রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে চা প্রেরণের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।
চা পান করলে ত্বক কালো হয়না
গুজবে কান দিবেন না , চা পান করলে ত্বক কালো হয়না। চা খেলে যদি বাস্তবিকই কেউ কালো হয়ে যেত, তাহলে তো ইংরেজ ও আইরিশদের গায়ের রং আগেই পাল্টে ...
-
১৬০০ সালের দিকে রুশদের কাছে বেশিরভাগ চা পৌঁছাতো চীন থেকে রাশিয়ার পথে ক্যারাভান রুটে। উটের কাফেলা মাসের পর মাস ধরে ভ্রমণ করে মহাদেশ জুড়ে ...
-
১৯ শতকের কথা। ভারতবর্ষে চা ছিল নিষিদ্ধ পানীয়, বিশেষ করে বাংলা তে। চাকে মাদক বা নেশাদ্রব্য মনে করা হতো এবং চা বাগানের চাকরিকে মনে করা হতো ...
-
কোনো বিশেষ দিন আসলেই আমি অবাক হয়ে যাই। চায়ের মত এত সাধারণ একটি বিষয়কে এত অসাধারণ ভাবে উপস্থাপনের আইডিয়া আপনাদের মাথায় কোত্থেকে আসে তা ভেবেই ...
































